ভারতীয় জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে

Total Views : 145
Zoom In Zoom Out Read Later Print

ভারতের ডাল ও রড নিয়ে 'এমভি সেঁজুতি' নামে জাহাজ মঙ্গলবার সকাল ১০টায় বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছেছে। জাহাজ থেকে নামিয়ে এসব পণ্য বুধবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে ভারতে যাওয়ার কথা রয়েছে।

এর মধ্য দিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে পর এবার চট্টগ্রাম নৌবন্দর ব্যবহার করে আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে নিজেদের পণ্য নিতে শুরু করতে যাচ্ছে ভারত। ১৪ জুলাই জাহাজ ভারতের কলকাতা থেকে বাংলাদেশের চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হয়। ভারতের জাহাজ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মনসুক মান্ধাভিয়া ওই দিন এক ভার্চুয়্যাল অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পতাকা নাড়িয়ে জাহাজের যাত্রা আরম্ভ করেন।

বাংলাদেশ্যে পণ্য আনার দায়িত্বে থাকা ম্যাংগু লাইন নামে প্রতিষ্ঠানের ঢাকা অফিসের ম্যানেজার মো. সোহেল খান বুধবার দুপুরে কালের কণ্ঠকে জানান, সকাল ১০টায় জাহাজটি বন্দরে এসে ভেড়ে। এখন কাগজপত্র তৈরি শেষে যত দ্রুত সম্ভব কনটেইনার খালাস করা হবে।

২০১৮ সালের ২৫ অক্টোবর বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে 'অ্যাগ্রিমেন্ট অন দ্য ইউজ অব চট্টগ্রাম অ্যান্ড মোংলা পোর্ট ফর মুভমেন্ট অব গুডস টু অ্যান্ড ফ্রম ইন্ডিয়া' চুক্তির আওতায় আর্টিক্যাল টু (অনুচ্ছেদ দুই) অনুযায়ী ২০১৯ সালের ৫ অক্টোবর উভয় দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) অনুযায়ি এসব পণ্য বাংলাদেশের ওপর দিয়ে নিয়ে যাচ্ছে ভারত। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ও সংশ্লিষ্ট স্থানীয় ব্যবসায়িদের সূত্রে এসব তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জাহাজে দুটি কনটেইনারে রড আছে ৫৩ দশমিক ২৫ মেট্রিকটন ও পৃথক দুটি কনটেইনারে ডাল আছে ৪৯ দশমিক ৮৩ মেট্রিকটন। চট্টগ্রাম বন্দরে আসার পর সড়কপথে ট্রেইলরে করে আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে ভারতে যাবে এসব পণ্য। পণ্য পরিবহনে সাত ধরনের ফি বেঁধে দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, যা পণ্য পরিবহনকারী সংস্থা পরিশোধ করবে।

বাংলাদেশের ম্যাংগু লাইন নামে প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ভারত খেকে পণ্যটি পাঠাচ্ছে ডার্সেল নামে একটি প্রতিষ্ঠান। অন্যদিকে চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য খালাস করবে কেজি শিপিং ইন্টারন্যাশনাল। আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে পণ্য পরিবহনের দায়িত্বে থাকবে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট আদনান ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল। ডাল গ্রহণ করবে ভারতের গৌহাটির প্রতিষ্ঠান ইটিসি অ্যাগ্রো প্রসেসিং ও রড গ্রহণ করবে আগরতলার এস এম করপোরেশন লিমিটেড।  

আদনান ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল এর স্বত্বাধিকারী মো. আক্তার হোসেন মঙ্গলবার দুপুরে কালের কণ্ঠকে বলেন, জাহাজটি নির্ধারিত সময় থেকে একদিন পিছিয়ে মঙ্গলবার চট্টগ্রাম বন্দরে এসে নোঙর করেছে। কনটেইনারগুলো খালাস করে বুধবার আখাউড়া বন্দর দিয়ে পাঠানোর প্রস্তুতি নিয়ে রাখা হয়েছে।

একাধিক সূত্রে জানা গেছে, পণ্য পরিবহনে সহজ পথের বিবেচনায় আশুগঞ্জের পাশাপাশি চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর ব্যবহার করতে চায় ভারত। এর আগে আশুগঞ্জ নৌবন্দর ব্যবহার করে আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের যন্ত্রের পাশাপাশি অন্যান্য পণ্য নিয়ে যায় ভারত। এখন থেকে তারা নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীও নিতে চায়। বিশেষ করে সেভেন সিস্টার হিসেবে পরিচিত ভারতের ত্রিপুরাসহ সাতটি রাজ্যের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য নিতে আগ্রহী হয়ে ওঠে সে দেশের সরকার ও ব্যবসায়ীরা। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের সঙ্গে পণ্য পরিবহনের চুক্তি হয়।

চুক্তির আলোকে প্রথম পরীক্ষামূলক চালান হিসেবে রড ও ডাল নিচ্ছে ভারত। রডগুলো সরকারি কাজে ব্যবহার হবে, যা ওপারে আগরতলা স্থলবন্দরের গুদামে রাখা হবে। ডাল যাবে আসাম রাজ্যের গৌহাটিতে। আগরতলা স্থলবন্দর থেকে ১১ কিলোমিটার দূরে জিরানীয় এলাকায় ডাল রাখা হবে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের দ্বিতীয় সচিব (কাস্টমস : আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও চুক্তি) আক্তার হোসেন স্বাক্ষরিত এক চিঠি থেকে জানা যায়, পরীক্ষামূলক ট্রানজিট পণ্য চালানের ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে, ডকুমেন্ট প্রসেসিং ফি প্রতি চালান ৩০ টাকা, ট্রান্সশিপমেন্ট ফি প্রতি মেট্রিকটন ২০ টাকা, সিকিউরিটি চার্জ প্রতি মেট্রিকটন ১০০ টাকা, এসকর্ট চার্জ প্রতি মেট্রিকটন ৫০ টাকা, বিবিধ প্রশাসনিক চার্জ প্রতি মেট্রিকটন ১০০ টাকা, কন্টেইনার স্ক্যানিং ফি প্রতি কন্টেইনার ২৫৪ টাকা। এছাড়া ইলেকট্রিক লক অ্যান্ড সিল ফি হিসেবে বিধিমালা দ্বারা নির্ধারিত পরিমাণ দিতে হবে।

ওই চিঠিতে বলা হয়, বাংলাদেশে প্রবেশে সাত দিনের মধ্যে ভারতে পণ্য প্রবেশ করবে। তবে বিশেষ পরিস্থিতিতে কাস্টমস কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করে সময় বাড়ানো যাবে। বাংলাদেশে প্রবেশ বন্দর চট্টগ্রাম থেকে আখাউড়া আসা পর্যন্ত এক বা একাধিক কর্মকর্তা নিয়োগ দিতে হবে।

এদিকে, চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য খালাসের দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠান কেজি শিপিং করপোরেশনের জসীম উদ্দিন ভূঁইয়া রবিবার কালের কণ্ঠকে বলেন, কাস্টমসের কাগজপত্র তৈরি করা শেষে জাহাজ থেকে পণ্য কনটেইনার নামানো হবে। সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে আশা করি বুধবার আখাউড়া দিয়ে পণ্য ভারতে যাবে।

See More

Latest Photos